ওমানে গাড়ি থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 14 May, 2026
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের আল বাতিনাহ প্রদেশের আল মিলিদ্দা (মুলাদ্দাহ) এলাকায় একটি গাড়ি থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে এবং পরদিন বুধবার (১৩ মে) লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহত চার ভাই হলেন—মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ সাহেদ, মুহাম্মদ সিরাজ ও মুহাম্মদ শহিদ। তাঁরা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দেরাজার পাড়া এলাকার মৃত মো. জামাল উদ্দিনের সন্তান।
একসাথে চার সহোদরের এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার এবং নিজ এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
পারিবারিক সূত্র ও ওমান প্রবাসীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ছোট দুই ভাই সিরাজ ও শহিদের বুধবার (১৩ মে) রাতে ওমানের ফ্লাইট যোগে দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফিরে তাঁদের বিয়ে করারও পরিকল্পনা ছিল। দুই ভাইয়ের দেশে ফেরা উপলক্ষে কেনাকাটা (শপিং) করার জন্য গত মঙ্গলবার চার ভাই একসাথে একটি কার নিয়ে বের হয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় ছিলেন এবং সেখান থেকে মুলাদ্দাহর দিকে রওনা দেন।
ঘটনার দিন রাত আটটার পর চার ভাইয়ের একজন বারকা এলাকায় অবস্থানরত তাঁদের এক আত্মীয়কে মোবাইলে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। অত্যন্ত আকুল সেই বার্তায় তিনি জানান যে, তাঁরা প্রচণ্ড অসুস্থ বোধ করছেন এবং গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। একই সাথে তিনি তাঁদের অবস্থানের লোকেশনও পাঠিয়েছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র অসুস্থতা অনুভব করায় চিকিৎসার জন্য তাঁরা মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকের সামনে গাড়িটি পার্ক করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত তাঁরা অচেতন হয়ে পড়ায় আর গাড়ি থেকে নামতে পারেননি। পরে পার্কিংয়ে থাকা গাড়ির ভেতর চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি পুলিশকে খবর দেন। ওমান পুলিশ এসে গাড়ির দরজা খুলে চার ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে দুটি ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে: ওমান প্রবাসী আবু তৈয়ব ও মাহমুদুর রশিদ মাসুদের বরাতে জানা গেছে, পার্কিংয়ে গাড়িটি চালু অবস্থায় থাকার সময় এসির গ্যাস বিস্ফোরিত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্য একটি তথ্য বলছে চলন্ত বা দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির ভেতরে কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল, যার ফলে চার ভাই দ্রুত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং গাড়ি আনলক করে বের হওয়ার শক্তিও হারিয়ে ফেলেন।
ওমান পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত (Post-mortem) প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করছে না দেশটির পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে, একসাথে চার সন্তানকে হারিয়ে মা এবং বড় দুই ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানেরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই মো. রাশেদ বিবাহিত এবং তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় ভাই মো. শাহেদও বিবাহিত ছিলেন। বর্তমানে ওমানে তাঁদের একমাত্র জীবিত ভাই মো. এনাম আছেন। তিনি নিহত ভাইদের মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা করছেন বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে।
এদিকে, চট্টগ্রামের রাঙ্গানীয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে এবং লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে বলে জনান তিনি।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

